Wednesday, February 27, 2019

আমার মনের কথা ১



আমি খুবই সাধারণ একজন মানুষ। সব-সময় নিজেকে নিয়ে ভাবতে একটু বেশি ভালোবাসি, এটার মানে আমাকে স্বার্থপর ভাববেন না। কারন,নিজেকে নিয়ে ভাবার পাশাপাশি আমি মানুষকে সাহায্য করতেও অনেক পছন্দ করি। এটা সবসময় আমাকে ভালো থাকতে সাহায্য করে। কিন্তু,লোকলজ্জার ভয়ে মানুষকে সাহায্য করতে আমি একটু পিছপা হয়। আমি সবসময় নীরবে থাকতে পছন্দ করি। আমি চাইনা আমাকে নিয়ে কেউ আলোচনা করুক। এটার জন্য আমাকে দেমাগী ভাবার দরকার নাই কারন আমাকে নিয়ে কেউ আলোচনা করলে আমার খুব লজ্জা লাগে। দেখেনতো কি একটা অবস্থা।


তো যাই হোক,আমি ছোটকাল থেকেই একটু দূরন্ত-প্রকৃতির ছিলাম এবং একটু নাছোড়বান্দাও ছিলাম বটে। তবে একটু উৎসবমূখর ছিলাম। কিন্তু, সবার হাসিখুশি আবার পছন্দ হতো না। এই যেমন ধরেন, ঈদের সময় তো সবাই আনন্দ করবে কিন্তু তখন আমার আনন্দ করতে ভালো লাগতো না। কারন, এখন তো সবাই আনন্দ করছে আমি আনন্দ না করলে কারোর কোনো যাবে-আসবে না। আবার কোথাও গানের কনসার্ট হলে সবাই তো যেয়ে লাফালাফি করবে,হৈ-হুল্লোড় করবে এটা আমার মোটেও পছন্দ হয় না। আমি মনে মনে তখন নিজেকে খুব ধার্মিক ভাবতে শুরু করি। মনে মনে ভাবতাম, আমার ধর্মে তো এই উচ্ছৃঙ্খলার জায়গা নাই তো আমি ঠিকই আছি।আর আল্লাহ এদের হেদায়েত দিক। এর জন্য বর্তমান সমাজ আমাকে অসামাজিক ভাবতে পারে। তাহলে হ্যা আমি অসামাজিক। আমি কেমন অসামাজিক আপনাদের একটু ধারণা দিই। মনে করেন,আমাদের বাসায় যদি নতুন মেহমান আসে তখন আমার যে কি লজ্জা লাগে ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। আমি মনে মনে বলি বাসায় মেহমান না আসলে ভালোই হতো। এই যে মনে করেন,নতুন বা পুরাতন কোনো মেহমান বাসায় আসলে তাদের সাথে আমাদের প্রথম কথোপকথন কী  হবে, ‘এই যে ওমক কেমন আছেন?’ আবার মেহমান বাসা থেকে চলে যাওয়ার সময় একটা সাধারণ কথা বলতে হয়,’আবার আমাদের বাসায় বেড়াতে এসেন ।‘ এই কথাগুলা বলা যেনো বাধ্যতমূলক। এটার জন্য আমার লজ্জাই মুখ লাল হয়ে যাওয়ার উপক্রম।

Wednesday, January 16, 2019

অসফলতার গল্প

মানুষ! নামটা শুনলেই ভালো/খারাপ দুইধরনের চিন্তা মাথায় আসে। কিছু কিছু সময় নিজেকে মানুষ বলে পরিচয় দিতে অনেক ভালো লাগে। আবার কিছু কিছু কারনে খুবই লজ্জাবোধ হয়। আসলে আল্লাহ আমাদের সর্বশ্রেষ্ট মাখলুকাত হিসেবে সৃষ্টি করেছেন একমাত্র তার ইবাদত করার জন্য। এমনকি তিনি আমাদেরকে পৃথিবীতে পাঠানোর আগে আমাদেরকে দিয়ে প্রতিজ্ঞাও করিয়েছেন, যেনো আমরা পৃথিবীতে গিয়ে একমাত্র তারই ইবাদত করি। অথচ আমরা মানবজাতি কি সহজেই আমাদের প্রতিজ্ঞা ভুলে যাই। আমারা পৃথিবীতে শুধু আমাদের নিয়েই ভাবি।



সফল হই বা ব্যর্থ হই আমরা আমাদেরকে নিয়েই সবসময় ভাবতে পছন্দ করি। আসলে জীবনে সফল হওয়া এতোটা সোজা না। যে বা যারা সফল হয়েছে তাদের জীবনের অসফলতার গল্প কোন অংশেই কম না। এসব অসফল গল্পগুলোর মিশ্রনের ফলেই আজ সে সফল। আসলে প্রকৃতি অনেক কঠিন, আপনাকে কোন কিছুই এতো সহজে দিবে না। এ পি জে আবুল কালাম স্যার এর কথার সাথে মিলিয়ে বলতে হয় 'সূর্যের মতো তেজোদ্দীপ্ত হতে হলে তোমাকে সূর্যের মতোই পুড়তে হবে।' 

আজ যে ব্যক্তি সফল, তার জীবনের প্রথম দিকের অসফল গল্পগুলো সে এখন অকপটে স্বীকার করে নেয় এবং মানুষকে হাল ছাড়তে নিষেধ করে। অথচ সে কিন্তু একসময় অত্যন্ত বাজেভাবে অসফল ছিলো এবং সে সবসময় সবার কাছ থেকে মুখ লুকিয়ে থাকতো। যাতে কেউ তাকে কোনকিছু জিজ্ঞাসা করার সুযোগ না পায়। সে সবসময় একা একা থাকতে পছন্দ করতো। কিন্তু, তার মনে অদম্য ইচ্ছা ছিলো। সে তার পরিবার, প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধব সকল থেকে কিছুদিন দূরে সরে থাকলো, যাতে কেউ তাকে ব্যর্থতার কথা মনে করিয়ে না দেই। যখন সে আস্তে আস্তে সফল হয় তখন তার জীবনে অতীতে ঘটে যাওয়া সকল অসফল গল্পগুলো মনে করে এবং মুচকি মুচকি হাসে। সে যদি সুযোগ পায় বুক উচিয়ে তার অসফলতার গল্প মানুষকে বলে অনুপ্রেরণা দিবে। তাই আমি বলি-"তোমার জীবনে এই সময়ের অসফল গল্পগুলো মানুষের কাছে বলতে যতোই লজ্জা লাগুক, ভবিষ্যতের জন্য তুমি প্রস্তুত হও। তুমি যদি ভবিষ্যতে সফল হও তখন তোমার ঐ অসফলতার গল্পগুলো মানুষের কাছে অনুপ্রেরণা হবে এবং তুমি গর্বের সহিত সেগুলো বলে বেড়াবা।" 

কোভিড ১৯ – নোবেল করোনা ভাইরাস এবং বাংলাদেশ

  বর্তমান বিশ্বে সবার মুখে একটাই আতঙ্ক “ নোবেল করোনা ভাইরাস” । সবধরনের মানুষই এই ব্যাপারটা সম্পর্কে অবগত। অত্যন্ত দুঃখের সাথে একটা ...